বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। শারদীয়া দুর্গাপুজোর আগে বসন্তকালেও দেবী দুর্গার আরাধনা হয় ‘বাসন্তী পুজো’ হিসেবে। চৈত্র নবরাত্রির পুণ্যলগ্নে মা বাসন্তীর আরাধনায় মেতেছে আপামর জনতা। কিন্তু শাস্ত্রজ্ঞ ও জ্যোতিষীদের মতে, এবারের দেবীর আগমন ও গমনের সময়কাল এবং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান অত্যন্ত অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছে। পঞ্জিকা মতে, এবারের বাসন্তী পুজোর নির্ঘণ্ট এবং লগ্ন বিন্যাসে এমন কিছু যোগ তৈরি হয়েছে, যা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শাস্ত্রমতে, দেবীর আগমনের বাহন যদি অশুভ হয়, তবে তার প্রভাব পড়ে মর্ত্যের ওপর। ২০২৬ সালের চৈত্র নবরাত্রির গ্রহ সংস্থান বলছে, মঙ্গলের কুদৃষ্টি এবং রাহুর অবস্থানের কারণে সামাজিক অশান্তি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বা আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সতর্ক থাকার।
জ্যোতিষীদের মতে, মেষ, কর্কট এবং বৃশ্চিক রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর এই অশুভ প্রভাব সবথেকে বেশি পড়তে পারে। কর্মক্ষেত্রে বাধা, হঠাৎ শরীর খারাপ বা অর্থহানির যোগ দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরেও অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই অশুভ লক্ষণ। তবে ভয়ের কিছু নেই, মা বাসন্তীর চরণে আত্মসমর্পণ এবং শুদ্ধাচারে ব্রত পালনের মাধ্যমে এই অশুভ প্রভাব কাটানো সম্ভব বলে মনে করছেন পণ্ডিতরা।
চৈত্র মাসের এই সন্ধিক্ষণে দেবীর আরাধনা করার সময় সাত্ত্বিক আহার এবং চণ্ডীপাঠের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অশুভ সময় কাটাতে লাল জবা ও বেলপাতা দিয়ে মায়ের পুজো করার বিধান দিচ্ছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। মনে রাখবেন, ভক্তিই হলো সমস্ত বিপত্তি নাশের শ্রেষ্ঠ উপায়।