প্যাচপ্যাচে গরম নয়, বসন্তেই ফিরল ‘জানুয়ারি’! রাতভর বৃষ্টিতে একধাক্কায় তলানিতে তাপমাত্রা, কাঁপছে কলকাতা?

চৈত্র মাসের শুরুতেই প্রকৃতির একি অদ্ভুত খেয়াল! যেখানে তপ্ত রোদ আর ঘামাচি হওয়ার কথা, সেখানে কার্যত ‘শীতের আমেজ’ ফিরে এল বাংলায়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে একধাক্কায় প্রায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে গিয়েছে।

শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মরসুমের স্বাভাবিকের তুলনায় ১১ ডিগ্রি কম। এর পাশাপাশি সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ১৯.৭ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৪ ডিগ্রি নিচে। রাতভর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির ফলে শহর ও শহরতলির মানুষ ভোরের দিকে হালকা চাদর বা ফ্যানের রেগুলেটর কমাতে বাধ্য হয়েছেন। বসন্তের মাঝে এমন জানুয়ারির আমেজ সাধারণত দেখা যায় না।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে কালবৈশাখী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতেও আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলাতেও বৃষ্টি ও কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে।

তবে এই আবহাওয়া কতদিন স্থায়ী হবে? আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জোড়া প্রভাবেই এই খামখেয়ালি আবহাওয়া। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে তাপমাত্রা আবারও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। আপাতত আগামী সপ্তাহান্ত পর্যন্ত ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি পেতে চলেছে বাংলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy