বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের পাল্টা হিসেবে এবার রণংদেহি মেজাজে অবতীর্ণ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি ইরান সরকারকে চরমপত্র দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছিল তেহরান। এই জলপথটি বিশ্ব খনিজ তেলের সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী। এখান দিয়ে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে তেলের আকাল এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরে ইতিমধ্যেই সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে আমেরিকা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনও এই আল্টিমেটাম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানের কট্টরপন্থী নেতারা বারবারই বলে আসছেন যে, তাঁদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করলে তাঁরা জলপথ বন্ধ রাখতে দ্বিধা করবেন না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর পৃথিবী কি আরেকটি বড় যুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।