“ভোটের পরেই বাংলা ভাগ?” ডিলিমিটেশন নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে এক চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনের পরেই ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের নামে পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে টুকরো করার এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “ভোট মিটে গেলেই বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাকে ভাগ করার নীল নকশা তৈরি রেখেছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন এক জনসভা থেকে কড়া সুরে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন কেবল দিল্লির কথা মতো চলছে। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিশানা করতে।” তাঁর মতে, এই ডিলিমিটেশন আসলে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার এক কৌশল। তিনি আরও দাবি করেন, উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার যে পুরনো দাবি বিজেপি নেতারা তুলে আসছিলেন, ভোটের পর ডিলিমিটেশনের আড়ালে সেই চক্রান্তকেই বাস্তবায়িত করা হবে।

ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বাংলার মাটি এবং মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করা হলে আগুন জ্বলবে।” অন্যদিকে, বিজেপি এবং কমিশন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভোটের আগে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি যেহেতু ২০২৬-এর পরেই দেশজুড়ে শুরু হওয়ার কথা, তাই মমতার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। বাঙালির আবেগ ও রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষাকেই এবার প্রধান নির্বাচনী ইস্যু করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy