২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে শুক্রবার ঘাসফুল শিবিরের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্তেহারে তিনি ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ (Didi’s 10 Pledges) সামনে এনেছেন, যা মূলত উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই ইস্তেহার কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আগামী ৫ বছরের জন্য বাংলার উন্নতির রোডম্যাপ।
সবচেয়ে বড় চমক দেওয়া হয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে। জানানো হয়েছে, সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলাদের জন্য ২০,৪০০ টাকা করা হবে। অর্থাৎ মাসে ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘বাংলার যুব-সাথী’, যেখানে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য দেশে প্রথমবার রাজ্যে আনা হচ্ছে ৩০,০০০ কোটি টাকার আলাদা ‘কৃষি বাজেট’।
প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। বাংলায় তৈরি হবে আরও ৭টি নতুন জেলা। স্বাস্থ্যের জন্য ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচে প্রতি ব্লকে শুরু হবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ ক্যাম্প, যেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা মানুষের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা করবেন। ‘বাংলার শিক্ষায়তন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্ত সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ‘পাকা বাড়ি’ এবং ঘরে ঘরে ‘পাইপ লাইনের পানীয় জল’ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে কার্যত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।