বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার গ্ল্যামার বনাম গ্ল্যামারের হাই-ভোল্টেজ টক্কর। বিজেপির দ্বিতীয় দফার ১১২ জনের তালিকায় সবথেকে বড় চমক—সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক লাভলি মৈত্র। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্ট্র্যাটেজি ও লক্ষ্য স্পষ্ট করলেন পর্দার ‘দ্রৌপদী’।
সোনারপুরের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের আবেগের কথা জানিয়ে রূপা বলেন, “মা চেয়েছিল গাছপালা ঘেরা একটা বাড়ি, নিজের উপার্জনে বাবা-মায়ের জন্য প্রথম বাড়ি ওখানেই কিনেছিলাম। আমি ওখানকারই মেয়ে, মানুষ আমাকে সব সময় পাশে পাবে।” তবে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী রূপার গলায় ঝরে পড়ল ক্ষোভও। আরজি কর বা ‘অভয়া’ কাণ্ড টেনে এনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “লজ্জার বিষয় যে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও নির্যাতিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন! এতেই অপরাধীরা আশকারা পায়। পশ্চিমবঙ্গ এখন নারী ও শিশু পাচারের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে, এবার এটা থামা দরকার।”
রাজনীতিকে রোজগারের উপায় নয়, বরং কর্মসংস্থানের মাধ্যম হিসেবে দেখতে চান রূপা। তাঁর মতে, রাজ্যে দালালরাজ বন্ধ করে কৃষি আইনের সুফল পৌঁছে দেওয়া জরুরি। হিন্দি সিনেমার বড় অফার ছেড়েও মানুষের সরকার গড়ার লক্ষ্যে তিনি এখন ময়দানে। রূপার কথায়, “আমি টিএমসি বা সিপিএম সরকার নয়, মানুষের পশ্চিমবঙ্গ সরকার গড়তে চাই।” এমনকি নির্যাতিতার মায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়াকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।