লালচে ভাব। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সময়ে বাতাসে ভেসে বেড়ায় কোটি কোটি পরাগকণা বা পোলেন। ডায়েটেশিয়ানের মতে, যখন এই পরাগকণা আমাদের শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কোষ থেকে ‘হিস্টামিন’ (Histamine) নামক এক ধরণের রাসায়নিক নির্গত হয়, যার ফলে শুরু হয় ত্বকের অস্বস্তি।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ওষুধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে শরীরে হিস্টামিনের মাত্রা কমাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন—আমলকী, লেবু বা পেয়ারা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রতিদিনের রান্নায় হলুদের ব্যবহার বাড়াতে পারেন; হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-হিস্টামিন হিসেবে কাজ করে।
চুলকানি ও অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে এই মরসুমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার যেমন—আখরোট বা তিসি বীজ দারুণ কার্যকরী। পাশাপাশি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করুন, যা রক্ত থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, বাইরের ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এই সময়ে হিস্টামিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বসন্তের রূপ উপভোগ করতে ডায়েটে এই সামান্য পরিবর্তনই হতে পারে আপনার সুস্থতার চাবিকাঠি।