২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল চওড়া হতে শুরু করেছে। এবার সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আইপ্যাকের পক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। যারা সেই টাকা দিতে পেরেছে, তারাই এবারের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ এই নেতা।
তপন চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় এবার ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে বসুন্ধরা গোস্বামীকে। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রবীণ এই বিধায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে যারা দলের জন্য ঘাম ঝরিয়েছেন, তাঁদের ব্রাত্য করে টাকার বিনিময়ে টিকিট বিলি করছে আইপ্যাক। তাঁর কথায়, “আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা এসে ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যে সৎ পথে রাজনীতি করি, এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আর আজ তার ফল হাতেনাতে পেলাম।”
তপন চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ওপর জোর দিচ্ছেন, তখন নিজের দলের বিধায়কের মুখে ‘টিকিট বিক্রির’ অভিযোগে বিরোধীরাও সরব হয়েছে। বিজেপি ও বামেদের দাবি, তৃণমূল যে আসলে একটি কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে, তপনবাবুর বক্তব্যেই তা প্রমাণিত। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—তপন চট্টোপাধ্যায় কি নির্দল হিসেবে লড়াই করবেন, নাকি তাঁর এই ‘বিদ্রোহ’ অন্য কোনো বড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?