টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছিল চুঁচুড়া থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে। কিন্তু বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভায় দেখা গেল একেবারে উল্টো ছবি। সেখানে বিদায়ী বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডিকে এবার আর প্রার্থী করেনি তৃণমূল। পরিবর্তে ময়দানে নামানো হয়েছে নতুন মুখ, পেশায় অধ্যাপিকা তনুশ্রী হাঁসদাকে। আর এই রদবদল ঘিরেই রানিবাঁধের রাজনীতিতে বইছে নাটকীয় হাওয়া।
জ্যোৎস্না মাণ্ডি কি নতুন প্রার্থীকে মেনে নেবেন? এই প্রশ্ন যখন তুঙ্গে, তখনই সব জল্পনা উড়িয়ে তনুশ্রী হাঁসদার হাত ধরে প্রচারে নামলেন বিদায়ী মন্ত্রী। রানিবাঁধের নির্বাচনী মিছিলে শামিল হয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, টিকিট না পেলেও দলের অনুগত সৈনিক হিসেবেই থাকছেন তিনি। প্রার্থী তনুশ্রীও জানিয়েছেন, নাম ঘোষণার পরেই জ্যোৎস্না দেবী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আক্ষেপ ও ক্ষোভের সুর
তবে প্রচারের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের মনের ক্ষত চেপে রাখতে পারেননি জ্যোৎস্না মাণ্ডি। আবেগঘন গলায় তিনি বলেন:
“রানিবাঁধে কে প্রার্থী হবেন তা দল ঠিক করে। কিন্তু আমাকে প্রার্থী না করায় একদল মানুষ আমার বাড়ির সামনে পটকা ফাটিয়ে ব্যঙ্গোক্তি ও কটূক্তি করেছে। এই ধরনের আচরণ একেবারেই কাম্য নয়।”
ঘরের মানুষের এমন আচরণে যে তিনি ব্যথিত, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই আদিবাসী নেত্রী। পারিবারিক কারণে কয়েকদিন প্রচারে থাকতে পারবেন না বলেও আগাম জানিয়ে দিয়েছেন তিনি, যাতে বিরোধীরা একে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারে।
২০২১-এ জয়ের পর বড় দায়িত্ব পেয়েছিলেন জ্যোৎস্না। কিন্তু এবার কলকাতার একটি কলেজের অধ্যাপিকা তনুশ্রী হাঁসদাকে বেছে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। শিক্ষিতা ও মার্জিত ইমেজের তনুশ্রীকে নিয়ে দল আশাবাদী হলেও, পুরনো কর্মীদের আবেগ সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে।
চুঁচুড়ায় প্রার্থী বদলের পর যেখানে উৎসব হয়েছিল, রানিবাঁধে সেখানে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে পটকা ফাটানোর ঘটনা কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নতুন ইঙ্গিত? নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলে।