২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এবার কোনো খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। বাংলার মসনদ দখলের এই লড়াই যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য শুরু হয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম ‘অপারেশন ডেমোক্রেসি’। বুথে বুথে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তৈরি করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার সংখ্যাতত্ত্বের এক বিশাল সমীকরণ সাজিয়েছে কমিশন।
২৫ লক্ষ কর্মীর মেগা বাহিনী আসন্ন নির্বাচনে ভোট পরিচালনার জন্য এবার নামানো হচ্ছে বিশাল কর্মীবাহিনী। কমিশন সূত্রে খবর:
-
জনবল: গোটা রাজ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ সরকারি কর্মীকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শামিল করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে গণনা— প্রতিটি ধাপে এই বিশাল বাহিনী কাজ করবে।
-
প্রশিক্ষণ: ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) সামলানোর জন্য এই কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে।
১,১১১ পর্যবেক্ষকের কড়া নজরদারি শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কমিশনের তুরুপের তাস হলো ১,১১১ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক।
-
কড়া নজর: প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথ এবং ব্লকে এই পর্যবেক্ষকরা সরাসরি নজর রাখবেন।
-
রিপোর্টিং: কোথাও কোনো অনিয়ম বা হিংসার খবর পাওয়ামাত্রই তাঁরা সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিশনকে রিপোর্ট করবেন।
-
নিরপেক্ষতা: এই বিশাল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই হলো ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
কেন এই নজিরবিহীন প্রস্তুতি? বাংলার নির্বাচনের ইতিহাস এবং বিগত নির্বাচনগুলোতে হওয়া হিংসার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আটঘাট বেঁধে নামছে কমিশন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৫ লক্ষ কর্মী এবং এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনকে কমিশন ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হিসেবে দেখছে।
সম্পাদকের নোট: সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় কমিশনের এই বিশাল আয়োজন কি সফল হবে? ১,১১১ জন পর্যবেক্ষক কি পারবেন বুথ দখলমুক্ত রাখতে? উত্তর দেবে সময়।