লাল সংকেত দালাল স্ট্রিটে! ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘে কাঁপছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। গত কয়েকদিনেই বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা সাফ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ কেন ভারতের শেয়ার বাজারে? এর নেপথ্যে থাকা ‘জটিল অঙ্ক’ ব্যাখ্যা করেছেন SEBI শংসায়িত বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সমিতা সাহা কর্মকার।
তেলের চাকাতেই ঘোরে বাজারের চাকা ভারতের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হলো অপরিশোধিত তেল। বিশেষজ্ঞ সমিতা সাহা জানাচ্ছেন:
-
আমদানির ওপর নির্ভরতা: ভারতের নিজস্ব তেল উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আসে।
-
ডলারের টানাপোড়েন: যুদ্ধ পরিস্থিতি মানেই তেলের আকাশছোঁয়া দাম। আর বেশি দামে তেল কিনতে হলে ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার দ্রুত খালি হবে। এর ফলে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম কমে যাবে।
-
মুদ্রাস্ফীতির ভয়: তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে। আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন।
হরমুজ প্রণালীর সেই ‘ডেডলক’ ইরান যদি কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এর ফলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে। সমিতা সাহার মতে, এই অনিশ্চয়তাই শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নামাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য টিপস: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্থির সময়ে আতঙ্কিত হয়ে (Panic Sell) শেয়ার বিক্রি না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বরং বাজারের এই পতনকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে নজর রাখতে হবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর।