মিড-ডে মিল বললেই সাধারণত চোখে ভাসে পাতলা ডাল, ভাত আর বড়জোর একটি সেদ্ধ ডিম। কিন্তু সেই চিরাচরিত ছবিকে আমূল বদলে দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এফপি স্কুল (Falta FP School)। স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের পাতে এবার পড়ল গঙ্গার চওড়া পেটির ইলিশ আর সুস্বাদু এঁচোড় চিংড়ি। ‘প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ’ (PM POSHAN) প্রকল্পের অধীনে পুষ্টির এই রাজকীয় আয়োজন দেখে অবাক অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনও।
মেনুতে কী কী ছিল? এদিন স্কুলের ডাইনিং হলে পড়ুয়াদের সামনে যখন থালা সাজিয়ে দেওয়া হয়, তখন তাদের আনন্দ ছিল দেখার মতো। সাধারণ মেনুকে ছুটি দিয়ে সাজানো হয়েছিল এক এলাহি ভোজের আসর:
-
ইলিশের বাহার: ইলিশ মাছের ভাজা, সর্ষে ইলিশ এবং ইলিশের ঝাল— অর্থাৎ ইলিশেরই তিন ধরণের পদ।
-
চিংড়ির চমক: মরসুমি এঁচোড়ের সঙ্গে বড় মাপের চিংড়ি দিয়ে তৈরি ‘এঁচোড় চিংড়ি’।
-
অন্যান্য: সঙ্গে ছিল গরম ভাত, ডাল, আলু সেদ্ধ এবং চাটনি-পাঁপড়।
কেন এই বিশেষ উদ্যোগ? স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, পড়ুয়াদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়াতে এবং তাদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতেই এই ধরণের ‘তিথি ভোজ’ বা বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ফলতা যেহেতু হুগলি নদীর পাড়ে অবস্থিত, তাই স্থানীয় গঙ্গার টাটকা ইলিশ দিয়েই বাচ্চাদের আপ্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া: স্কুলের এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, অনেক গরিব পরিবারে যেখানে ইলিশ মাছ কেনা বিলাসিতা, সেখানে স্কুলের তরফে এমন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফলতা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এবং স্থানীয় শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরাও এই আয়োজনের তদারকি করেন।
বর্তমানে যখন রাজ্যের বহু স্কুলে মিড-ডে মিলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে ফলতার এই স্কুলটি এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করল।