পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে যখন ডামাডোল তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল বড়সড় স্বস্তির খবর। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি কাটিয়ে গুজরাটের মুंद्रा বন্দরে নিরাপদে নোঙর করল ভারতীয় পতাকাবাহী বিশালাকার জাহাজ ‘জগ লাডকী’ (Jag Laadki)। সঙ্গে করে নিয়ে এল প্রায় ৮০,৮৮৬ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল।
মৃত্যুফাঁদ এড়িয়ে ঘরে ফেরা: গত কয়েকদিন ধরে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পশ্চিম এশিয়া। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দরে ‘জগ লাডকী’ তেল ভরছিল, ঠিক সেই সময়ই সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ২২ জন ভারতীয় নাবিককে নিয়ে জাহাজটি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
কেন এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের মতো দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানোর জন্য এই ধরণের জাহাজের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি।
-
বিশাল পরিমাণ তেল: জাহাজটি প্রায় ৮০,৮৮৬ মেট্রিক টন ‘মুরবান ক্রুড অয়েল’ (Murban Crude Oil) নিয়ে এসেছে, যা দেশের বড় শোধনাগারগুলোর প্রয়োজন মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
-
জ্বালানি নিরাপত্তা: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘জগ লাডকী’র ফিরে আসা ভারতের শক্তি এবং সফল কূটনীতির বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-
অপারেশন সংকল্প: ভারতীয় নৌসেনার কড়া নজরদারি এবং ‘অপারেশন সংকল্প’-এর আওতায় জাহাজটিকে সুরক্ষিতভাবে ভারতীয় উপকূলে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: আদানি পোর্টস (Adani Ports) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ২৭৪ মিটার লম্বা এই বিশালাকার জাহাজটির আগমন ভারতের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে। এর আগে ‘শিভালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’ নামের দুটি এলপিজি জাহাজও একইভাবে ঝুঁকি এড়িয়ে ভারতে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে, তখন এই সরবরাহ ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।