আগুন জ্বলবে না হেঁশেলে! সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে সব হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধের ডাক, চরম বিপাকে আমজনতা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কালো মেঘ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের রান্নাঘরে। দেশজুড়ে তীব্র এলপিজি (LPG) সংকটের জেরে ধুঁকছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতিবাদস্বরূপ আগামী ২৩ মার্চ, সোমবার রাজ্যজুড়ে সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ডাক দিল কেরলের হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

কেন এই ধর্মঘট? সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। এই সুযোগে একদল অসাধু চক্র এবং বেসরকারি সংস্থা চড়া দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে কালোবাজারি শুরু করেছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে শামিল হবেন কয়েক হাজার হোটেল মালিক ও কর্মী।

কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ: দেশজুড়ে হাহাকারের আবহে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চকে মোদী সরকার জানিয়েছে:

  • উৎপাদন বৃদ্ধি: গত ৫ মার্চ থেকে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

  • কূটনৈতিক তৎপরতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে জোগান বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

  • আশ্বাস: পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

জনজীবনে প্রভাব: গ্যাসের সংকটে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ক্ষেত্র নয়, সাধারণ গৃহস্থও আশঙ্কায় রয়েছেন। রান্নার গ্যাসের এজেন্সির সামনে লম্বা লাইন এবং বুকিং নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এমনকি দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় ভোগ ও প্রসাদ বিতরণও সাময়িকভাবে বন্ধের মুখে পড়েছে।

সারসংক্ষেপ:

  • বড় সিদ্ধান্ত: সোমবার (২৩ মার্চ) কেরলে সব হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ।

  • কালোবাজারির অভিযোগ: সরকারি সিলিন্ডার অমিল থাকায় চড়া দামে মিলছে বেসরকারি গ্যাস।

  • সরকারি বার্তা: উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে, দ্রুত মিটবে সমস্যা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy