২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতার প্রবেশদ্বার বরানগর এখন রাজনীতির ‘হটস্পট’। একদিকে বিজেপির দাপুটে নেতা সজল ঘোষ, অন্যদিকে বামেদের তরুণ তুর্কি সায়নদীপ মিত্র। দুই বাগ্মী নেতার লড়াইয়ে বরানগরের মাটি যখন তপ্ত, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠছে—এই দ্বৈরথের মাঝেই কি ফের বাজিমাত করবেন তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সজল-সায়নদীপ দ্বন্দ্ব ও ভোট কাটাকাটির অঙ্ক: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরানগরে বিজেপি এবং সিপিএম—উভয় পক্ষই অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে। সজল ঘোষের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং সায়নদীপের জনভিত্তি ভোটারদের দুই মেরুতে ভাগ করে দিচ্ছে।
-
বিরোধী ভোট ভাগ: যদি বিরোধী ভোট সজল এবং সায়নদীপের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
-
সায়ন্তিকার প্লাস পয়েন্ট: গত উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হওয়া সায়ন্তিকা এলাকায় পরিচিত মুখ। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং নারী ভোটারদের সমর্থন তাঁর বড় হাতিয়ার।
ত্রিশঙ্কু লড়াইয়ের ফ্যাক্টরসমূহ: বরানগর বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সচেতন এলাকা। এখানকার লড়াইয়ে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে: ১. বামেদের পুনরুত্থান: সায়নদীপ মিত্রের নেতৃত্বে বামেরা যদি তাঁদের হারানো ভোট ফিরে পান, তবে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বড় ধস নামতে পারে। ২. সজল ঘোষের ইমেজ: লড়াকু নেতা হিসেবে সজলের জনপ্রিয়তা এবার বিজেপির তুরুপের তাস। ৩. তৃণমূলের সংগঠন: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে সায়ন্তিকার পাশে পুরো দল দাঁড়াবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
উপনির্বাচনের ফলাফল বনাম বর্তমান পরিস্থিতি: গত বছর বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হয়েছিলেন। তবে ২০২৬-এর এই ‘মহারণে’ পাল্লা কোন দিকে ঝুঁকবে, তা বলা কঠিন। সজল এবং সায়নদীপের প্রচারের তেজ যেমন বাড়ছে, তেমনই তৃণমূল শিবির নিঃশব্দে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার ঘুঁটি সাজাচ্ছে।