ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবার এক ব্যক্তিগত ও কুরুচিকর বিতর্কের মোড় নিল। ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর পুত্র এবং তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনেই-কে (Mojtaba Khamenei) নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মোজতবার ব্যক্তিগত জীবন ও যৌন প্রবৃত্তি নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা শুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
কী সেই বিতর্কিত দাবি? বিদেশে নির্বাসিত বেশ কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এবং সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দাবি, মোজতবা খামেনেই সমকামী বা ‘গে’। এমনকি দাবি করা হয়েছে যে, পুরুষদের উপস্থিতিতে তিনি আবেগপ্রবণ বা কামুক হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, ইরানি আইনে সমকামিতা একটি অত্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে খোদ সুপ্রিম লিডারের পুত্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তেহরানের অন্দরে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের ‘অট্টহাসি’ এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ভিডিও বা বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াই এখন মূল আলোচনার বিষয়। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের এই ‘অট্টহাসি’ মূলত ইরানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার একটি কৌশল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না কি সত্য? তবে এই খবরের কোনও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি বা প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে:
-
উত্তরসূরি বিতর্ক: খামেনেই-এর পর কে বসবেন ইরানের মসনদে, তা নিয়ে লড়াই তুঙ্গে। মোজতবাকে সরাতেই কি এই ব্যক্তিগত চরিত্রহনন?
-
ইজরায়েলি বা মার্কিন চাল: ইরানকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে এই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে।
ইরান প্রশাসন বরাবরের মতোই এই ধরণের বিষয়কে ‘পশ্চিমি প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মোজতবা খামেনেই-এর এই ‘কেচ্ছা’ এখন টক অফ দ্য টাউন।