আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র তদন্তে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশিতে বা তদন্ত প্রক্রিয়ায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাধা প্রদান বা হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই ‘সুখকর’ নয়। শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে শাসক শিবিরের জন্য বড় অস্বস্তি তৈরি করল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: এদিন শুনানির সময় বিচারপতিরা মন্তব্য করেন:
“একটি সাংবিধানিক পদে থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া বা অসহযোগিতা করা গণতন্ত্রের জন্য কাম্য নয়। আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। ইডি যদি আই-প্যাক মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখতে চায়, তবে তাতে প্রশাসনিক বাধা আসা অনুচিত।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সম্প্রতি আই-প্যাকের অফিসে ইডি-র তল্লাশি অভিযান চলাকালীন রাজ্য পুলিশের একটি বড় দল সেখানে পৌঁছেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশের উপস্থিতিতে ইডি আধিকারিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে সরব হয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এদিন শীর্ষ আদালত এই কড়া বার্তা দিল।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
-
বিরোধীদের দাবি: বিজেপি ও বাম নেতাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর স্পষ্ট হয়ে গেল যে সরকার ভয় পাচ্ছে। তদন্ত এগোলে আরও অনেক রাঘববোয়াল ধরা পড়বে।
-
তৃণমূলের পাল্টা: রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা হচ্ছে বলেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।”
আই-প্যাকের ভবিষ্যৎ: সুপ্রিম কোর্টের এই সবুজ সংকেতের পর এবার ইডি আই-প্যাকের শীর্ষ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের গতি আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের জন্য যে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছিল, তার উৎস এখন ইডি-র প্রধান স্ক্যানারে।