২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দিল্লির ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সাজ সাজ রব। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে এআইসিসি (AICC) স্ক্রিনিং কমিটির। কিন্তু এই ডামাডোলের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসলেন কংগ্রেসের শীর্ষ আইনি মস্তিষ্ক তথা বর্ষীয়ান নেতা অভিষেক মনু সিংভি। তাঁর কথা থেকে এটা স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের মাটি এখনও ততটা শক্ত নয়।
সিংভির ‘বাস্তববাদী’ পর্যবেক্ষণ: দিল্লির দলীয় কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিংভি ইঙ্গিত দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে মূল লড়াই হবে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে। যদিও তিনি সরাসরি ‘হার’ শব্দটা ব্যবহার করেননি, তবে তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী—
“পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মানুষ তৃণমূল অথবা বিজেপির মধ্যেই বিকল্প খুঁজছে। আমরা লড়াই করছি ঠিকই, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিকে অস্বীকার করার উপায় নেই।”
কেন পিছিয়ে কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক মনু সিংভি আসলে দিল্লির হাই-কমান্ডের সেই চিন্তাধারাকেই প্রতিফলিত করেছেন যেখানে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক তৃণমূলের শক্তিকে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজ্যে বামেদের সঙ্গে জোট এবং আসন রফা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে কংগ্রেস কর্মীরাও দিশেহারা। সিংভির এই মন্তব্য আসলে সেই ‘ফ্রাস্ট্রেশন’ বা বাস্তববোধেরই ফসল।
বৈঠকের অন্দরের খবর: সূত্রের খবর, এদিন এআইসিসি-র বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু আসনে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের মতো গড়ে যেখানে কংগ্রেসের কিছুটা প্রভাব রয়েছে, সেখানেও তৃণমূলের ‘সবাইকে নিয়ে চলা’র নীতির কাছে কংগ্রেস কতটা টিকবে, তা নিয়ে সন্দিহান দিল্লির নেতারা।
বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: সিংভির এই মন্তব্যে হাততালি দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, “কংগ্রেস জানে যে তারা সাইনবোর্ড হতে চলেছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোল করে বলা হয়েছে, সিংভি আসলে বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে তৃণমূলের জনপ্রিয়তার কথাই বলতে চেয়েছেন।