অসম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই কংগ্রেস শিবিরে সবথেকে বড় বিপর্যয় নেমে এল। দীর্ঘ ৫০ বছর যে দলের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক ছিল, সেই কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ ও সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ। বুধবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন।
কেন এই বিচ্ছেদ? ইস্তফাপত্রে প্রদ্যুৎ বরদলৈ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, দলে তিনি গত কয়েক বছর ধরে চূড়ান্ত ‘অপমান’ ও ‘সুযোগহীনতা’র শিকার হচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ:
-
নেতৃত্বের উদাসীনতা: প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ এবং স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এক অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
-
সাসপেন্ড হওয়ার যন্ত্রণা: ২০২২ সালে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে শশী থারুরকে সমর্থন করার পর থেকেই তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ।
হিমন্তের ‘উন্মুক্ত’ আমন্ত্রণ ও যোগদান: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগে থেকেই প্রদ্যুৎ বরদলৈকে ‘স্বাভিমানী হিন্দু’ হিসেবে উল্লেখ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বুধবার যোগদানের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রদ্যুৎবাবুর মতো অভিজ্ঞ নেতার আগমনে বিজেপি আরও শক্তিশালী হবে। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ দিসপুর আসন থেকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
ছেলের ভবিষ্যৎ বনাম বাবার আদর্শ: মজার বিষয় হলো, প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছাড়লেও তাঁর ছেলে প্রতীক বরদলৈ মারঘেরিটা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিট পেয়েছেন। এই প্রসঙ্গে প্রদ্যুৎবাবু বলেন, “আমার ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক এবং তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ আছে। আমার সিদ্ধান্তের প্রভাব ওর ওপর পড়বে না।” তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বাবার এই দলত্যাগ ছেলের নির্বাচনী লড়াইকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এই দলত্যাগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, সামান্য টিকিট বিলি নিয়ে অসন্তোষ থেকে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। অন্যদিকে, এক মাসের মধ্যে ভূপেন বরা ও প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের মতো দুই শীর্ষ নেতার বিদায়ে অসমে কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায়।