২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশি এবং তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে তীব্র বাদানুবাদ চলল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইডির মামলার আইনি ভিত্তি বা ‘মেনটেইনেবিলিটি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, শীর্ষ আদালত আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল যে, বিষয়টি অত্যন্ত ‘অস্বস্তিদায়ক’ এবং ‘অস্বাভাবিক’।
বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন রাজ্য দাবি করে, ইডি কোনো ব্যক্তি বা কর্পোরেট বডি নয়, তাই তারা অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে পারে না। এর উত্তরে বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন—
“যদি একজন মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দেন এবং নথিপত্র সরিয়ে নেন, তবে কি ইডি কেবল মূক দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে? এই পরিস্থিতি আগে কখনও ঘটেনি। আইনকে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।”
কী ঘটেছিল আই-প্যাক অফিসে? ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে, যখন কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কলকাতার আই-প্যাক অফিসে হানা দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
রাজ্যের সওয়াল: রাজ্যের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং শ্যাম দিওয়ান যুক্তি দেন যে, ইডি এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে আনতে পারে না। তাঁদের দাবি, এটি আসলে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের বিষয় এবং ইডিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ‘অস্ত্র’ (Weaponised) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্য আরও দাবি করে যে, ইডি আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছিল।
পরবর্তী শুনানি: আজ রাজ্য সরকার বাড়তি সময় চাইলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী ২৪ মার্চ, ২০২৬ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিনই ঠিক হবে ইডির এই মামলার আইনি গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু।