মমতার চ্যালেঞ্জার এবার হুমায়ুন! শুভেন্দুর কায়দায় জোড়া কেন্দ্রে লড়ার বড় ঘোষণা বিদ্রোহী নেতার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নাটকীয়তা। শুভেন্দু অধিকারীর পর এবার জোড়া কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বড় ঘোষণা করলেন ভরতপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি কেবল একটি নয়, বরং দুটি আলাদা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শুভেন্দুর ফর্মুলায় হুমায়ুন: বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী যেমন গতবার দুটি আসনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (এবং এবারও তাঁর নামের পাশে একাধিক কেন্দ্রের জল্পনা রয়েছে), ঠিক সেই পথেই হাঁটছেন হুমায়ুন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজের দলের শক্তি পরীক্ষা এবং নিজের জয়ের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নিয়েছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের নিজের গড় রেজিনগর এবং তাঁর বর্তমান নির্বাচনী ক্ষেত্র ভরতপুর—এই দুই জায়গা থেকেই তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে সূত্রের খবর।

ভবানীপুরে ‘জুপ’-এর প্রার্থী কে? সবচেয়ে বড় চমক ছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে। হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন, ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) একজন শক্তিশালী সংখ্যালঘু প্রার্থীকে ময়দানে নামাবে। যদিও প্রার্থীর নাম তিনি এখনই খোলসা করেননি, তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে দাঁড় করানো হবে যিনি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে সক্ষম।

তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ: তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীর সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেস তিন নম্বরে নেমে যাবে। সংখ্যালঘু ভোটকে হাতিয়ার করে তিনি যে ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ গড়ার চেষ্টা করছেন, তা শাসক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই বিদ্রোহ? ওয়াকফ আইন থেকে শুরু করে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবীর। গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরই তিনি নিজস্ব দল গঠন করেন। তাঁর লক্ষ্য ৯০টি আসনে জয়লাভ করে কিং-মেকারের ভূমিকা পালন করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy