২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। অন্তত এক ডজন বা ১২টি কেন্দ্রে এমন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যাঁরা আক্ষরিক অর্থেই ‘সকালে যোগদান করে বিকেলেই টিকিট’ পেয়েছেন। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অঙ্ক কষে বিরোধীদের কড়া টক্কর দিতে নতুন মুখের ওপরই বাজি ধরেছে শাসক দল।
নন্দীগ্রামে বড় চমক: গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এবার সেই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন পবিত্র কর। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে লড়াই দিতে এক লড়াকু সংগঠনকর্তাকে বেছে নিয়েছে দল। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তাঁর পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই লড়াই করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
এক ডজন কেন্দ্রে নবাগতদের ভিড়: রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে সেই ১২ জন প্রার্থীকে নিয়ে, যাঁদের নাম তালিকায় আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁরা ঘাসফুল ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং জয়ী হওয়ার ক্ষমতা (Winnability) বিচার করেই এই ‘ইনস্ট্যান্ট’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
নবীন-প্রবীণের মিশেল ও বাদ পড়লেন যাঁরা: এবারের তালিকায় ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
-
মহিলা প্রার্থী: ৫২ জন।
-
সংখ্যালঘু মুখ: ৪৭ জন।
-
তপশিলি জাতি ও উপজাতি: ৯৫ জন। তবে বড় খবর হলো, এবার প্রায় ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নামও। বেহালা পশ্চিমে তাঁর বদলে প্রার্থী করা হয়েছে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে।
তৃণমূলের লক্ষ্য ২২৬ পার: প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছেন, “আমরা ২০২৬-এ ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরব।” আইপ্যাকের সার্ভে রিপোর্ট এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ফিডব্যাক মিলিয়েই যে এই চমকপ্রদ তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট।