মহাকাশ মানেই শুধু গ্রহ বা ছায়াপথ নয়, গত কয়েক দশকে মানুষের অভিযানে সেখানে জমা হয়েছে আমাদেরই তৈরি বিচিত্র সব বস্তু। কোনোটি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাক্ষী, আবার কোনোটি নিছকই মহাজাগতিক আবর্জনা। নাসার রেকর্ড থেকে শুরু করে মহাকাশচারীদের বর্জ্য— মহাকাশে ভাসমান এমন ৬টি অদ্ভুত জিনিসের রহস্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ইউরিন ক্রিস্টাল: শুরুর দিকের অ্যাপোলো মিশনে মহাকাশচারীদের মূত্র সরাসরি মহাকাশে ফেলে দেওয়া হতো। শূন্য মহাকাশের প্রচণ্ড ঠান্ডায় তা মুহূর্তে জমে স্ফটিক বা ক্রিস্টালে পরিণত হতো, যা সূর্যের আলোয় নক্ষত্রের মতো ঝিকমিক করত।
২. ভয়েজারের গোল্ডেন রেকর্ড: ১৯৭৭ সালে পাঠানো ভয়েজার মহাকাশযানে রয়েছে সোনা দিয়ে মোড়ানো গ্রামোফোন রেকর্ড। এতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার শুভেচ্ছা, পাখির ডাক এবং ধ্রুপদী সঙ্গীত রেকর্ড করা আছে, যাতে ভিনগ্রহের কোনো সভ্যতা আমাদের পরিচয় পায়।
৩. কেসলার ক্লাউড: এটি পুরনো রকেট ও বিকল স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের একটি বিপজ্জনক মেঘ। এই ক্ষুদ্র টুকরোগুলো এত দ্রুত ঘোরে যে একটি ছোট বল্টুও আস্ত মহাকাশযান ধ্বংস করতে পারে।
৪. ৪৮ কোটি তামার সূচ: ১৯৬০-এর দশকে আমেরিকা ‘প্রজেক্ট ওয়েস্ট ফোর্ড’-এর অধীনে এই সূচগুলো ছড়িয়ে দিয়েছিল রেডিও যোগাযোগ নিশ্চিত করতে। আজ সেগুলো মহাকাশ বর্জ্য হিসেবে ভাসছে।
৫. মুন মিউজিয়াম: ১৯৬৯ সালে একটি ক্ষুদ্র চিপ চাঁদে রেখে আসা হয়, যাতে অ্যান্ডি ওয়ারহলের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের ছবি ছিল। এটিই বিশ্বের প্রথম মহাকাশ জাদুঘর।
৬. লেগো মিনি ফিগার: নাসার ‘জুনো’ মহাকাশযানে বৃহস্পতি গ্রহে পাঠানো হয়েছে তিনটি অ্যালুমিনিয়ামের লেগো মূর্তি— জুপিটার, জুনো এবং গ্যালিলিও।
মহাবিশ্বের অসীমতায় এই ক্ষুদ্র বস্তুগুলোই হয়তো একদিন মানব সভ্যতার অস্তিত্বের একমাত্র প্রমাণ হিসেবে টিকে থাকবে।