সনাতন ধর্মে মহাবীর হনুমানজিকে ‘সংকটমোচন’ বলা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, বজরংবলীর আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি নিমেষেই কেটে যায়। সাধারণত হনুমানজিকে প্রসন্ন করতে আমরা সিন্দুর বা দেশলাই ব্যবহার করে প্রদীপ জ্বালাই। কিন্তু শাস্ত্র মতে, এমন কিছু বিশেষ উপাচার রয়েছে যাতে দেশলাই বা সিঁদুরের ব্যবহার ছাড়াই বজরংবলীর আশীর্বাদ পাওয়া সম্ভব। বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এই সহজ ভক্তিপূর্ণ কাজগুলি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
প্রথমত, হনুমানজিকে তুষ্ট করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তাঁকে তুলসী পাতা অর্পণ করা। কথিত আছে, মাতা সীতার আশীর্বাদে তুলসী বজরংবলীর অত্যন্ত প্রিয়। আপনি যদি প্রতিদিন বা প্রতি মঙ্গলবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে হনুমানজিকে একটি তুলসী পাতার মালা পরিয়ে দেন, তবে আপনার গৃহের নেতিবাচক শক্তি দূর হবে এবং সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পাবে। এতে কোনো অগ্নি বা প্রদীপের প্রয়োজন পড়ে না, শুধুমাত্র শুদ্ধ ভক্তিই যথেষ্ট।
দ্বিতীয়ত, বোঁদে বা বেসনের লাড্ডু। বজরংবলীর প্রিয় ভোগ হলো এই মিষ্টি। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, দেশলাই জ্বালিয়ে আরতি করার পাশাপাশি বা তার পরিবর্তে যদি নিষ্ঠার সঙ্গে হনুমানজিকে হলুদ রঙের মিষ্টান্ন ভোগ দেওয়া হয়, তবে আর্থিক অনটন দ্রুত দূর হয়। বিশেষ করে ঋণের জালে জড়িয়ে থাকলে মঙ্গলবার এই ভোগ নিবেদন করলে সুফল মেলে।
তৃতীয়ত, রাম নাম জপ। হনুমানজি হলেন রামভক্ত। কোনো বাহ্যিক উপাচার বা আড়ম্বর ছাড়াই যদি আপনি মনে মনে ‘রাম’ নাম স্মরণ করেন, তবে হনুমানজি সবথেকে বেশি খুশি হন। এটি জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাকে মানসিক শক্তি জোগাবে এবং সাফল্যের পথ প্রশস্ত করবে। মনে রাখবেন, ভক্তি যেখানে গভীর, সেখানে বাহ্যিক আড়ম্বর গৌণ হয়ে যায়। তাই নিজের ঘরে বা মন্দিরে বসে শান্ত মনে হনুমান চালিশা পাঠ বা সুন্দরকাণ্ড পাঠ করুন। এটি আপনার পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।