বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার ঠিক কয়েক মিনিট আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’কে তীব্র বিদ্রুপ ও কটাক্ষে বিঁধলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণাকে একটি “বিশাল জোক” বা বড় কৌতুক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, “বাস্তবে কেউ এক পয়সাও পাবে না, এটি কেবল মানুষকে বোকা বানানোর একটি নির্বাচনী প্রহসন।”
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা বনাম শুভেন্দুর তোপ: রবিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর সরকার রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬-এর মার্চ থেকেই দেওয়া শুরু করবে। পাশাপাশি হিন্দু পুরোহিত এবং মুসলিম ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে ২,০০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
এই ঘোষণার পরেই পাল্টা আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি টুইটারে (বর্তমানে X) লেখেন, “কি হাস্যকর রসিকতা! নির্বাচনের দিন ঘোষণার ঠিক কয়েক মিনিট আগে মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ করে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কথা মনে পড়ল? বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের কোষাগার লুট করার পর এবং কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার পর, এটা কি আপনার শেষ মুহূর্তের মরিয়া নির্বাচনী কৌশল?”
“প্রতারণা করছে নবান্ন”: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাপে পড়ে এই ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। এখন ভোটের মুখে সেই দায় এড়াতে এবং মানুষের ক্ষোভ কমাতে এই অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তির নাটক করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ দেখছে কীভাবে শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
ভোটের আগে উত্তপ্ত রাজনীতি: বিরোধী দলনেতা সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, মমতার এই ‘লাস্ট মিনিট সোপ’ বা শেষ মুহূর্তের উপহার কি সত্যিই ভোটারদের মন গলাতে পারবে, নাকি শুভেন্দুর ‘ভাঁওতা’র অভিযোগ আমজনতার মনে প্রভাব ফেলবে— তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর তরজা শুরু হয়েছে।