ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু যদি এই সমস্যা বারবার হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে একে কেবল সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় সর্দি-কাশি শরীরের অভ্যন্তরে থাকা জটিল রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।
প্রথমত, এটি হতে পারে অ্যাজমা বা হাঁপানির লক্ষণ। যারা ঘন ঘন কাশির সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি ফুসফুসের একটি প্রদাহজনক অবস্থা হতে পারে। এছাড়া সাইনাসাইটিস বা নাকের সাইনাসে সংক্রমণ হলেও দীর্ঘমেয়াদী সর্দি ও মাথাব্যথা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ত, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস বা সিওপিডি (COPD)-এর মতো ফুসফুসের গুরুতর রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে একটানা কাশি। এছাড়া যক্ষ্মা বা টিবি (TB)-এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি। অনেক সময় হার্ট ফেইলিওর বা হৃদরোগের কারণেও ফুসফুসে জল জমে শুকনো কাশি হতে পারে, যা আমাদের অনেকেরই অজানা।
তৃতীয়ত, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা অ্যাসিডিটির কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড গলার ওপরের দিকে উঠে এসে দীর্ঘমেয়াদী কাশির উদ্রেক করতে পারে। এছাড়া কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ তো রয়েছেই।
সর্দি-কাশি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে, বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা কাশির সাথে রক্ত দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ই সুস্থতার চাবিকাঠি।