ভোটের আগে ফের সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের অন্তত ১০টি জায়গায় বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অবৈধ কল সেন্টারের আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণা এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর ও দুর্গাপুরজুড়ে চলছে এই তল্লাশি।
ইডি সূত্রে খবর, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে এই অভিযান চলছে। সুরশ্রী কর, সম্রাট ঘোষ, সুভজিৎ চক্রবর্তী-সহ বেশ কয়েকজনের বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন ঘোষের বাসভবন ও বিধান মার্কেটের শোরুমেও চলছে তল্লাশি। ইতিমধ্যে প্রচুর নথিপত্র, কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই প্রতারণা চক্রটি বিদেশি (প্রধানত অস্ট্রেলীয়) নাগরিকদের টেক সাপোর্টের নামে ফোন করে রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করত। এরপর সেই টাকা হাওয়ালা বা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো। ইডির সন্দেহ, এই অবৈধ অর্থ রাজনৈতিক ফান্ডিং বা অন্যান্য বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কড়া অবস্থান। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এজেন্সিগুলোকে ব্যবহার করছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে, সাইবার ক্রাইমের তদন্তকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যের উত্তাপ তুঙ্গে।