পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। এখনও কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করলেও, নন্দীগ্রামে গেরুয়া শিবিরের দেওয়াল লিখন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। রবিবার বিকেলে কমিশনের ঘোষণার পরপরই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন দেওয়ালে শুভেন্দু অধিকারীর নামে পদ্মফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার বার্তা লিখে প্রচার শুরু করেছেন বিজেপি কর্মীরা।
শুভেন্দুর ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পরই এই প্রচার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম মন্ডল ৪-এর বিজেপি সভাপতি সৌমিত্র দে। সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, দল চাইলে তিনি তাঁর ‘ভদ্রাসন’ নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন। তাঁর কথায়, “মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমার এখানে চৌকিদারি করা উচিত।”
তবে এই দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান বিজেপির এই প্রচারকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে কোনো কাজ করেননি, শুধুমাত্র মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুফিয়ানের স্পষ্ট হুঙ্কার, “শুভেন্দু অধিকারী যদি এখানে প্রার্থী হন, তবে তাঁকে ৫০ হাজার ভোটে হারাব।”
উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরে ২৩শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ছিল রাজ্যের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র। এবারও যে নন্দীগ্রামের দখল নিতে দুই দলই মরিয়া, তা এই দেওয়াল লিখন এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ থেকেই স্পষ্ট। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে এই রণক্ষেত্রে।