যুদ্ধক্ষেত্র মানেই কেবল গোলাবারুদ আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিন ফুরিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের আধুনিক সমরনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম মেধা। সম্প্রতি জানা গেছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো যুদ্ধের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষ ‘মিলিটারি চ্যাটবট’ ব্যবহার শুরু করেছে। যে কাজ করতে আগে কয়েক ডজন গোয়েন্দা ও রণকৌশলবিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন এআই সেই জট খুলে দিচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে।
কিন্তু এই এআই চ্যাটবট আসলে কী করবে? সমর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই চ্যাটবটগুলো কেবল চ্যাট জিপিটির মতো প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতিদের ‘অ্যাডভাইজার’ হিসেবে কাজ করবে। এটি হাজার হাজার স্যাটেলাইট ইমেজ, ড্রোন ফুটেজ এবং শত্রুপক্ষের রেডিও সিগন্যাল নিমেষে বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারবে কোথায় হামলা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এমনকি শত্রুর রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার সময় বা তাদের পালানোর সম্ভাব্য পথও নির্ভুলভাবে বলে দিতে সক্ষম এই কৃত্রিম মেধা।
বর্তমানে আমেরিকা, চীন ও ইজরায়েলের মতো দেশগুলো ‘হাইপারওয়ার’ (Hyperwar) বা অতিদ্রুত গতির যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখানে মানুষের মস্তিষ্ক যে গতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এআই তার চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে দেবে। যেমন—কোন লক্ষ্যে আগে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বা কোন পথে সেনা পাঠালে ঝুঁকি কম, তার পূর্ণাঙ্গ ছক সাজিয়ে দেবে এই চ্যাটবট। তবে এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের হাতে চলে গেলে তা মানবসভ্যতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তবুও ২০২৬-এর এই রণক্ষেত্রে এআই চ্যাটবটই যে আসল ‘গেম চেঞ্জার’, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।