শেয়ার বাজারে এখন চূড়ান্ত অস্থিরতা। গত কয়েকদিনে দালাল স্ট্রিটের সূচক যে হারে ওঠানামা করছে, তাতে সাধারণ লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। একদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির ভয়—সব মিলিয়ে বাজার এখন কার্যত এক আগ্নেয়গিরি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: এখন কী করা উচিত? সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) চালু রাখা ভালো, নাকি এককালীন বা লাম্পসাম (Lumpsum) বিনিয়োগের এটাই সেরা সময়?
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন বাজার খুব বেশি নড়বড়ে থাকে, তখন তাড়াহুড়ো করে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শেয়ার বাজারের ইতিহাস বলছে, অস্থিরতা মানেই ভয়ের কিছু নয়, বরং এটি সঠিক কৌশল বেছে নেওয়ার একটি সুযোগ।
যারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য SIP হলো সেরা হাতিয়ার। বাজারের পতনের সময় আপনি একই টাকায় বেশি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট কিনতে পারেন, যাকে বলা হয় ‘রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং’। অর্থাৎ, বাজার যখন নিচে নামে, তখন আপনার কেনা ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে যায়, যা বাজার ঘুরে দাঁড়ালে আপনাকে বিপুল মুনাফা দেয়। অন্যদিকে, এককালীন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে। যদি আপনি একদম সর্বনিম্ন স্তরে (Bottom) বিনিয়োগ করতে পারেন, তবেই লাম্পসাম লাভজনক। কিন্তু বাজারের তলানি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। আপনার যদি হাতে বড় অংকের টাকা থাকে, তবে তা একবারে না ঢেলে STW (Systematic Transfer Plan) ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে টাকা লিকুইড ফান্ডে রেখে ধীরে ধীরে ইকুইটিতে স্থানান্তরিত করা যায়। মনে রাখবেন, ধৈর্যই হলো শেয়ার বাজারে জেতার একমাত্র চাবিকাঠি। হুজুগে পড়ে শেয়ার বিক্রি না করে সঠিক পরামর্শ নিয়ে নিজের পোর্টফোলিও সাজান।