পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে এবার কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যে হিংসামুক্ত, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। রবিবার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোট পর্বে কোনো রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
দুই দফায় কড়া প্রহরা এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন মূলত দু’টি দফায় (২৩ এবং ২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করে প্রতিটি বুথকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ভোটের অনেক আগে থেকেই রুট মার্চ শুরু হবে এবং এরিয়া ডমিনেশনের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হবে।
কমিশনের নয়া মাস্টারস্ট্রোক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কয়েকটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
-
কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রফেশনাল মোতায়েন: কেবল সংখ্যায় নয়, বাহিনীর সঠিক কৌশলগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
-
ভোটরদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো: সাধারণ মানুষ যাতে ভয়হীনভাবে বুথে আসতে পারেন, তার জন্য ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ নেওয়া হচ্ছে।
-
অসাধু আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: গত নির্বাচনগুলোতে যারা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের এবার নির্বাচনের কাজে ব্রাত্য রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
জিরো টলারেন্স: ভোট-পূর্ববর্তী বা ভোট-পরবর্তী হিংসার ক্ষেত্রে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ এবং কড়া শাস্তির বার্তা দিয়েছে কমিশন।
জ্ঞানেশ কুমারের মতে, বাংলার নির্বাচনের গায়ে লেগে থাকা ‘হিংসার তকমা’ মুছে ফেলাই তাঁদের লক্ষ্য। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।