মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন যে, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরান চীন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে সক্রিয় সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে। আরাঘচির এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা পশ্চিমী দেশগুলোর বিশেষ করে আমেরিকার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে বেজিং ও মস্কো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যদিও তিনি ঠিক কী ধরণের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বা প্রযুক্তি ইরান পাচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত খোলসা করেননি, তবে তার ইঙ্গিত ছিল অত্যন্ত গভীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের এই সন্ধিক্ষণে চীন ও রাশিয়ার এই অবস্থান এক শক্তিশালী ‘অক্ষশক্তি’ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার সাথে তাদের সামরিক চুক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) এবং ড্রোন প্রযুক্তির আদান-প্রদান দু-দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, চীনের কাছ থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনীকে বিশেষ শক্তি দিচ্ছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান যেভাবে এই দুই বৃহৎ শক্তির সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, তা কূটনীতির ময়দানে বড় জয় হিসেবে দেখছে তেহরান। এই ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের পূর্বাভাস, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জোর চর্চা।