যাঁদের পকেটে টান, পেটে খিদে—তাঁদের শেষ আশ্রয় শ্রমজীবী ক্যান্টিন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ যখন এই জনহিতকর উদ্যোগ বহু মানুষের প্রতিদিনের আহারের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই এক নতুন বিপদের মুখে দাঁড়িয়েছে এই লড়াকু হেঁশেল। বর্তমানে ভয়াবহ এলপিজি (LPG) বা রান্নার গ্যাসের সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শ্রমজীবী ক্যান্টিনকে। কিন্তু আয়োজকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে দেবেন না তাঁরা।
শ্রমজীবী ক্যান্টিনের স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের দাম এবং জোগানের ঘাটতি তাঁদের কাজের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশো মানুষের জন্য নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা এমনিতেই এক চ্যালেঞ্জিং কাজ। তার ওপর গ্যাসের এই অপ্রতুলতা তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবুও ‘রিবের মুখে’ অর্থাৎ অভাবী মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। দরকার হলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে বা কাঠ-কয়লার উনুনে রান্না করেও এই পরিষেবা চালু রাখার অঙ্গীকার নিয়েছেন তাঁরা।
এই ক্যান্টিন কেবল একটি ভোজনালয় নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক। অতিমারি থেকে শুরু করে আজকের অর্থনৈতিক মন্দা—সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই উদ্যোগ। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, “লড়াই আমাদের রক্তে। গ্যাস সংকট আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না। আমরা মানুষের দানে চলি, মানুষের জন্যই লড়ি।” এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে কীভাবে ফের পূর্ণ উদ্যমে জ্বলে ওঠে শ্রমজীবী ক্যান্টিনের উনুন।