বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম ইজরায়েল-ইরান সংঘাত। ১৫ মার্চ ২০২৬-এর দুপুরে ইরান থেকে আসা এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘রেভলিউশনারি গার্ডস’ সরাসরি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার অঙ্গীকার করেছে। তাঁদের সাফ কথা, “নেতানিয়াহু যদি বেঁচে থাকেন, তবে তাঁকে পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক খুঁজে বের করে ধাওয়া করে হত্যা করা হবে।”
কেন এই চরম হুঁশিয়ারি? গত কয়েক মাস ধরে সিরিয়া ও লেবাননে ইরানের একাধিক শীর্ষ কম্যান্ডারের ওপর ইজরায়েলি হামলার অভিযোগে ফুঁসছিল তেহরান। ইরানের দাবি, নেতানিয়াহু কেবল প্যালেস্তাইনে গণহত্যা চালাচ্ছেন না, বরং ইরানের সার্বভৌমত্বেও আঘাত হানছেন। রেভলিউশনারি গার্ডসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিহিংসা কেবল সামরিক নয়, বরং এটি তাঁদের ‘পবিত্র লক্ষ্য’। তাঁরা নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার ফুরিয়ে এসেছে।
ইজরায়েলের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্ব রাজনীতি: তেহরানের এই সরাসরি খুনের হুমকির পর তেল আভিভ এবং জেরুজালেমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে। ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেত প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় ‘আয়রন শিল্ড’ প্রোটোকল সক্রিয় করেছে। অন্যদিকে, আমেরিকা এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান স্তরের কাউকে এভাবে সরাসরি হত্যার হুমকি আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমস্ত শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।