“আমি মরলে তুমিও মরবে!” বিয়ে ভাঙতেই পাত্রীর শরীরে এইচআইভি ইঞ্জেকশন দিয়ে ‘প্রতিশোধ’ পাত্রের

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বদলা যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা ভাবলে আজও মানুষের গা শিউরে ওঠে। হায়দরাবাদের পোচারাম আইটি করিডোর এলাকায় ঘটা এই পৈশাচিক ঘটনাটি আধুনিক প্রেম ও প্রতিহিংসার এক অন্ধকার দিক উন্মোচিত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: অভিযুক্ত যুবকটি জন্ম থেকেই এইচআইভি আক্রান্ত ছিল, কারণ তার বাবা-মা দুজনেই এই মারণ রোগের শিকার ছিলেন। ওই যুবতী ছিলেন যুবকেরই আত্মীয়। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় তরুণীর বাবা যুবককে একটি মেডিক্যাল টেস্ট করাতে বলেন। সেই রিপোর্টেই ধরা পড়ে যে যুবকটি এইচআইভি পজিটিভ। এর পরেই তরুণীর পরিবার তড়িঘড়ি বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তরুণীও ওই যুবকের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

পৈশাচিক প্রতিশোধ: পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেনি ওই যুবক। গত ১১ মার্চ যখন তরুণী বাড়িতে একা ছিলেন, তখন হঠাৎই ওই যুবক সেখানে উপস্থিত হয়। কোনো প্ররোচনা ছাড়াই নিজের পকেট থেকে রক্ত ভর্তি একটি সিরিঞ্জ বের করে সে সজোরে তরুণীর হাতে ঢুকিয়ে দেয়। রক্ত শরীরে পুশ করার পর সে চিৎকার করে বলে, “আমি একা মরব না, তোমাকেও এইডসের মরণ কামড় দিয়ে গেলাম।”

বর্তমান পরিস্থিতি: ঘটনার পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তাঁর শরীরে দাগ নজরে এলে পরিবারের কাছে বিষয়টি ফাঁস হয়। বর্তমানে তরুণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের প্রকৃত মাত্রা বুঝতে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। তবে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে খুনের চেষ্টার (BNS ১০৯ ধারা) মামলা রুজু করেছে। এই নৃশংস ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে, প্রতিহিংসা মানুষকে কতটা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য ও পৈশাচিক করে তুলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy