পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে ভোটারদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আগে নিয়ম ছিল, বোরখা বা মুখ ঢাকা ভোটারদের বুথের ভেতরে পোলিং অফিসারের সামনে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতো। কিন্তু এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং রিগিং বা ভুয়ো ভোট রুখতে বুথের বাইরেই আলাদা ‘ভেরিফিকেশন কাউন্টার’ তৈরির প্রস্তাব বিবেচনা করছে কমিশন।
নতুন এই ব্যবস্থায় কী কী থাকছে? কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথের প্রবেশপথের বাইরে এই বিশেষ কাউন্টার তৈরি করা হতে পারে। সেখানে মূলত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, মহিলা পোলিং স্টাফ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের বদলে মহিলা নির্বাচন কর্মীদের রাখা হবে। যারা বোরখা, নেকাব বা ঘোমটা পরে ভোট দিতে আসবেন, তাদের পরিচয়পত্রের ছবির সাথে মুখ মিলিয়ে দেখার কাজ করবেন এই মহিলা কর্মীরাই। এর ফলে বুথের ভেতরে ভোট দেওয়ার সময় বাড়তি ভিড় এবং পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? গত বেশ কিছু নির্বাচনে ভুয়ো ভোটার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে মুখ ঢাকা থাকার সুযোগ নিয়ে একজনের হয়ে অন্যজনের ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠত বারবার। সেই বিতর্ক এড়াতেই এই ‘প্রাক-প্রবেশ শনাক্তকরণ’ বা Pre-entry Verification-এর ভাবনা। এই কাউন্টারগুলোতে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন থাকতে পারে, যাতে কোনওরকম প্রভাব খাটানো বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
যদিও এই প্রস্তাবটি এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার অপেক্ষায়। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হতে চলেছে। এর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ড্রোন নজরদারি এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানা গেছে।