ওসমান হাদি খুনে বড় ব্রেক-থ্রু! নদীয়া থেকে পাকড়াও বাংলাদেশি ‘সুপারি কিলার’, পুলিশের জালে আরও এক

বাংলাদেশি রাজনীতিক ওসমান হাদি খুনের ঘটনায় এবার নদীয়া থেকে গ্রেফতার করা হল আরও এক সন্দেহভাজনকে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নদীয়া জেলায় অভিযান চালিয়ে এই বাংলাদেশি নাগরিককে জালে তুলেছে। ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে ওপার বাংলার এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ধৃতের অনুপ্রবেশের ধরণ। কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ওই ব্যক্তি নদীয়ার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আস্তানা গেঁড়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এসটিএফ সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগেই বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে হাদি হত্যার মূল চক্রী ফয়জল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় জানা গিয়েছিল, তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন। এরপর তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের জেরা করেই নদীয়ার এই নতুন অভিযুক্তের হদিশ পায় গোয়েন্দারা। ধৃত ব্যক্তিটি হাদি খুনের পর থেকেই পলাতক ছিল এবং নদীয়াতে পরিচয় গোপন করে দিনমজুর বা অন্য কোনো পেশার আড়ালে লুকিয়ে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ওসমান হাদি খুনের পর এই অপরাধীদের ভারতে পালিয়ে আসা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ের মতো রাজ্যে আশ্রয় নেওয়া কোনো বড়সড় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে কীভাবে বারবার অপরাধীরা এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে, তা বিএসএফ (BSF) এবং রাজ্য পুলিশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। ওপার বাংলার রাজনৈতিক অপরাধের শিকড় কি এপার বাংলাতেও বিস্তৃত? সেই উত্তর খুঁজছে এখন এসটিএফ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy