বাদশাকে খুনের হুমকি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের! পানিপথে চলল গুলি, টার্গেটে এবার জনপ্রিয় র‍্যাপার?

দেশের অপরাধ জগতের অন্ধকার গলি থেকে উঠে আসা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ফের একবার রক্তাক্ত নাশকতার ছক কষে সংবাদ শিরোনামে। সলমন খানের পর এবার তাদের নিশানায় রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় র‍্যাপার তথা সঙ্গীত তারকা বাদশা। রবিবার হরিয়ানার পানিপথে দিনের আলোয় হওয়া একটি গুলিবর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি বাদশাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এই কুখ্যাত গ্যাং। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বি-টাউনের অন্দরে নতুন করে আতঙ্কের মেঘ ঘনিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার পানিপথের আসান্ধ রোডের একটি অফিসের বাইরে হঠাৎই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। জনবহুল এলাকায় এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই অফিসটি দীর্ঘকাল ধরে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষ্ণোই গ্যাং-এর পক্ষ থেকে একটি বিস্ফোরক বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পানিপথের এই হামলাটি ছিল কেবল একটি ‘ট্রেলার’, আসল সিনেমা নাকি এখনও বাকি আছে।

উক্ত বার্তায় রণদীপ মালিক এবং অনিল পণ্ডিত নামে দুই ব্যক্তি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। দাবি করা হয়েছে, তাঁরা বর্তমানে আমেরিকা থেকে গ্যাং পরিচালনা করছেন। বিষ্ণোই গ্যাং-এর অভিযোগ, ওই অফিসটি থেকে বিদেশের কালো টাকা পাচার করে ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাই জনস্বার্থে তারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছে। তবে সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হল বাদশার প্রতি তাদের সরাসরি হুঁশিয়ারি।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিষ্ণোই বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাদশা তাঁর গানের মাধ্যমে হরিয়ানার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। গ্যাং-এর দাবি, এর আগে ২০২৪ সালে একটি ক্লাবেও বাদশাকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। এবার সেই আক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি ভয়াবহ হবে বলে জানানো হয়েছে। এই হুমকির জেরে বাদশার নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

পানিপথ পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভাইরাল হওয়া ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটির সত্যতা যাচাই করছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বাদশার নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পিছনে বিষ্ণোই গ্যাং-এর প্রকৃত সদস্যদের হাত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।” লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে কারাবন্দী থাকলেও তাঁর দলের নেটওয়ার্ক যেভাবে অবাধে কাজ করছে, তা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিউডের সেলেব্রিটিদের সুরক্ষা এবং অপরাধ জগতের এই আস্ফালন রুখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy