গুজরাটের কচ্ছ জেলায় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। দীর্ঘ দেড় মাস আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক তরুণ-তরুণীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর জানা গেল, নিছক ‘পরিবারের সম্মানের’ খাতিরে নিজের মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিককে নৃশংসভাবে খুন করেছেন বাবা ও তাঁর আত্মীয়রা। মৃতদের নাম নবীন রাবারি (২৪) এবং সোনু রাবারি (১৯)। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নবীন ও সোনু একে অপরকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ভালোবাসতেন এবং বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সোনুর পরিবার এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি নবীন যখন সোনুর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখনই পরিবারের সদস্যরা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। সোনু বাড়িতে ফিরতে অস্বীকার করেন এবং নবীনকেই বিয়ে করবেন বলে জেদ ধরেন। অভিযোগ, এরপরই সোনুর বাবা ভাঙ্কা রাবারি এবং তাঁর ভাইপো সোমা মিলে যুগলকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ দুটি একটি গভীর কুয়োয় ফেলে পাথর দিয়ে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, খুনের পর অভিযুক্ত বাবা নিজেই থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি ওই যুগলের মোবাইল ফোন নিয়ে দূরে বনের মধ্যে পুড়িয়ে দেন যাতে লোকেশন ট্র্যাক করা না যায়। কিন্তু পুলিশের ক্রমাগত জেরা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৪০ দিন পর কুয়ো থেকে পচাগলা দেহ দুটি উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তরুণীর বাবা ও ভাইপোকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এবং মায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।