সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর যখন শরীর একটু বিশ্রাম চায়, ঠিক তখনই আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় ‘ওভারটাইম’ করা শুরু করে। আগামীকালের মিটিংয়ের প্রেজেন্টেশন কিংবা বসের দেওয়া ডেডলাইন—অফিসের এই সমস্ত দুশ্চিন্তা বালিশে মাথা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় করে আসে। মনোবিদদের মতে, এই অভ্যাসটি আসলে একটি মারাত্মক ‘মানসিক ফাঁদ’, যা আপনার স্বাভাবিক স্লিপ সাইকেল বা ঘুমের চক্রকে তছনছ করে দিচ্ছে।
গবেষণা বলছে, ঘুমের ঠিক আগে কাজের কথা ভাবলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক উত্তেজিত থাকে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হাইপারঅ্যারোজাল’ বলা হয়। এটি কেবল অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া ডেকে আনে না, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘুমের আগে অফিসের ইমেল চেক করা বা পরের দিনের কাজের তালিকা তৈরি করা আপনার সাবকনশাস মাইন্ডকে শান্ত হতে দেয় না।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞেরা ‘বেডটাইম বাউন্ডারি’ তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন সরিয়ে রাখুন। কাজের চিন্তা এলে তা ডায়েরিতে লিখে রাখুন যাতে মস্তিষ্ক ভারমুক্ত হয়। মনে রাখবেন, ভালো ঘুম কেবল শারীরিক বিশ্রাম নয়, বরং পরের দিন দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ করার জ্বালানি। তাই কাজের কথা অফিসেই রেখে আসুন, নিজের ঘুমের সময়টুকু একান্তই নিজের জন্য রাখুন।