ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা আকাশপথের যুদ্ধের দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত। ফলাফল যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই যুদ্ধের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং একমাত্র জয়ী ব্যক্তিটির নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অভিযোগ উঠছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একপ্রকার ভুল বুঝিয়ে বা যুদ্ধের ফাঁদে ফেলে নেতানিয়াহু তাঁর দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বপ্ন পূরণ করছেন। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানকেও সহজে পদানত করা যাবে। কিন্তু এখন ট্রাম্প বুঝতে পারছেন পরিস্থিতি কতটা জটিল, যখন আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
নিখুঁত রাজনৈতিক চাল চালতে সিদ্ধহস্ত নেতানিয়াহু জানেন, এই যুদ্ধই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের ‘লাইফলাইন’। ইজরায়েলে তাঁর জনপ্রিয়তা যখন তলানিতে এবং দুর্নীতির একাধিক ফৌজদারি মামলায় তাঁর জেল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, ঠিক তখনই ইরান সংঘাতকে তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। যুদ্ধের আবহে ইজরায়েলের আদালত তাঁর মামলার শুনানি স্থগিতের আর্জি খারিজ করলেও, দেশের অভ্যন্তরে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ২০১০-১১ সালে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করে তিনি সেনাপ্রধানদের বাধার মুখে পড়েছিলেন, ২০২৬-এ এসে সেই কাজই তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করছেন।
তবে ব্যক্তি নেতানিয়াহুর জয় হলেও, দেশ হিসেবে ইজরায়েল কিন্তু বড়সড় বিপদের মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র দিয়ে সাময়িক আধিপত্য মিললেও মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে। গাজা ইস্যুর পর ইরান হামলা আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইজরায়েল-বিরোধী মনোভাব বাড়িয়ে তুলেছে। কুইনিপিয়াক সমীক্ষা বলছে, ৪৪ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন ইজরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন করছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের এই যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। কিন্তু নেতানিয়াহু অবিচল; তিনি জানেন ইতিহাস সবসময় জয়ীদের কথা বলে। আর এই ‘বিজয়’ ছিনিয়ে নিতে তিনি ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।