পশ্চিম এশিয়ায় চরম অস্থিরতার আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোনিক কথোপকথন অনুষ্ঠিত হলো। গত ১২ মার্চ রাতে হওয়া এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে ভারতকে এই সংকট নিরসনে ‘সক্রিয় ভূমিকা’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর এবং ইরান-মার্কিন সরাসরি সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম দুই নেতার মধ্যে কথা হলো।
সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি এবং ইজরায়েল-আমেরিকার আক্রমণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিস্তারিত জানান। তিনি ভারতকে একটি প্রভাবশালী বিশ্বশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অনুরোধ করেন যাতে ভারত তাঁর কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই যুদ্ধ থামাতে এগিয়ে আসে। পালটা প্রধানমন্ত্রী মোদীও ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত বরাবরই যুদ্ধবিরোধী এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী।
এই দীর্ঘ কথোপকথনে মোদী বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনটি বিষয়ের ওপর— সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বন্ধ করা, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ বাণিজ্যিক চলাচল বজায় রাখা। বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় আটকে রয়েছেন, যাঁদের উদ্ধার করা নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য। ভারতের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ভারতই বর্তমানে একমাত্র দেশ যার সাথে ইজরায়েল এবং ইরান— দুই পক্ষই আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।