রাজ্যজুড়ে চলা রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র আকাল এবার থাবা বসাল মানুষের আবেগ আর পারলৌকিক ক্রিয়াতেও। উত্তর কলকাতার এক শোকাতুর পরিবারে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ভোজ আয়োজন করতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটল পরিজনদের। ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে হন্যে হয়ে ঘুরেও মেলেনি সরকারি দামের সিলিন্ডার। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে, অর্থাৎ ২০০০ টাকা দিয়ে কালোবাজারি থেকে গ্যাস কিনে সম্পন্ন করতে হলো শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উত্তর কলকাতার এই পরিবারে সম্প্রতি বিয়োগব্যথা নেমে এসেছে। শাস্ত্র মেনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের দিন কয়েকশো আত্মীয়-স্বজনের খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে রান্নার জোগাড়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বুকিং করে রাখা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। পরিবারের অভিযোগ, দফায় দফায় যোগাযোগ করেও মিলছিল না কোনো সদুত্তর। রান্নার সময় এগিয়ে আসায় অসহায় বোধ করেন তাঁরা।
কালোবাজারির বাড়বাড়ন্ত: নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিয়ে ডোমেস্টিক গ্যাস কিনতে বাধ্য হন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, রান্নার গ্যাসের এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু কারবারি কালোবাজারি শুরু করেছে। বিশেষ করে অনুষ্ঠান বাড়ি বা শ্রাদ্ধবাসরের মতো জরুরি প্রয়োজনকে ঢাল করে সিলিন্ডার পিছু ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের আক্ষেপ, “এমনিতেই পরিবারে শোকের ছায়া, তার ওপর এই চরম আর্থিক ও মানসিক হয়রানি আমাদের পিষ্ট করে দিচ্ছে।”
হিমশিম সাধারণ মানুষ: নবান্নের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খুলে নজরদারির আশ্বাস দেওয়া হলেও, উত্তর কলকাতার এই ছবি বলে দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ে কালোবাজারি কতটা সক্রিয়। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন শোকের দিনেও প্রশাসনের সাহায্য পায় না, তখন প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। সোমবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিলেও, এই চড়া দামের ধাক্কা অনেককেই সর্বস্বান্ত করছে।