রাজ্যের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ। যেখানে একসময় ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতেন কর্মীরা, আজ সেখানে নেমে এসেছে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। কারণটা শুনলে অবাক হতে হয়—গ্যাস নেই! রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে ধুঁকছে রাইটার্সের ঐতিহ্যবাহী ক্যান্টিন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাহি খাবারের বদলে এখন পাতে জুটছে কেবল ‘এক-তরকারি আর ভাত’। এই দৈন্যদশা দেখে চোখের জল ফেলছেন ক্যান্টিনের দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মীরা।
বিলাসিতা নয়, কোনোমতে টিকে থাকা: ক্যান্টিন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। যেখানে প্রতিদিন কয়েকশো কর্মীর জন্য মাছ, মাংস, ডিমের নানা পদ রান্না হতো, সেখানে এখন উনুন জ্বলছে অতি কষ্টে। ক্যান্টিনের এক কর্মী আক্ষেপের সুরে বললেন, “গ্যাস না থাকলে রান্না করব কী দিয়ে? কোনোমতে ডাল-ভাত ফুটিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব? শেষ পর্যন্ত হয়তো ঝাঁপ বন্ধই করে দিতে হবে।”
বৈপরীত্যের ছবি: মজার বিষয় হলো, একদিকে যখন এলপিজি সংকট মোকাবিলায় নবান্নে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং কড়া নজরদারির কথা বলা হচ্ছে, ঠিক তখনই খোদ মহাকরণ বা রাইটার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই দশা। রাইটার্সের কর্মীরা দুপুরের খাবারের জন্য হয় বাইরে ছুটছেন, না হয় টিফিন বক্সের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বন্ধের আশঙ্কা: যদি দ্রুত এই গ্যাস সংকটের সমাধান না হয়, তবে শতাব্দী প্রাচীন এই হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের ক্যান্টিনে পাকাপাকিভাবে তালা ঝুলে যেতে পারে। একদিকে কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম, আর অন্যদিকে জ্বালানির অভাব—এই সাঁড়াশি চাপে পিষ্ট ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ। নবান্নের সক্রিয়তা কি তবে শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ? নাকি রাইটার্সের উনুন ফের জ্বলে উঠবে, এখন সেটাই দেখার।