ভোটের মরসুম শুরু হতেই ফের তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এবার শিরোনামে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে তাঁর করা একটি ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি নির্দিষ্ট জনসভায় এমন কিছু শব্দ প্রয়োগ করেছেন যা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। এই ঘটনার পর থেকেই কোণঠাসা বিধায়ক, আর তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল।
কী ঘটেছিল? সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মেজাজ হারান হুমায়ুন কবীর। সেখানে তিনি প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীদের দাবি, মেরুকরণের রাজনীতি করতেই এই ধরনের উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করছেন তিনি।
সব দলের সম্মিলিত নিন্দা: বিধায়কের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস—একযোগে সরব হয়েছে।
-
বিজেপি: গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি বিভাজনের রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতিও শুরু করেছে তারা।
-
বাম-কংগ্রেস: দুই দলের নেতারাই জানিয়েছেন, বাংলার সংস্কৃতিতে এই ধরনের কুরুচিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের কোনো স্থান নেই। জননেতা হয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলা অনুচিত।
অস্বস্তিতে শাসকদল: নিজ দলের বিধায়কের এমন মন্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসও বেশ কিছুটা অস্বস্তিতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের ব্যক্তিগত মন্তব্যকে দল সমর্থন করে না। সর্বধর্ম সমন্বয়ের যে বার্তা তৃণমূল দেয়, তার সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনো মিল নেই বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।