দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকে (CEC) অপসারণের দাবিতে সরব হলো বিরোধী দলগুলো। শুক্রবার বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের উভয় কক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রায় ১৯৩ জন সাংসদ (লোকসভায় ১৩০ ও রাজ্যসভায় ৬৩) এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগের পাহাড়:
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছেন। সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো এবং সরকারি যন্ত্র ব্যবহার করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় দিল্লিতে অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন।
অপসারণের আইনগত প্রক্রিয়া:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের যে কঠোর প্রক্রিয়া, সিইসি-র ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। ‘জাজেস এনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৬৮’ অনুযায়ী:
১. সংসদের উভয় কক্ষে একই দিনে নোটিশ পেশ করতে হয়।
২. সংশ্লিষ্ট কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
৩. প্রস্তাব গৃহীত হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা নির্ধারণ করবে সিইসি-র বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ কতটা সত্য।
এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী জোটের এই আইনি লড়াই কতদূর এগোয়।