বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকা ধর্মঘটে উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ। ডিএ-র পাশাপাশি শূন্যপদে নিয়োগ এবং অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবিতে সরকারি কর্মীরা এদিন রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কলকাতা থেকে জেলা—সব জায়গাতেই পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার ছবি উঠে এসেছে।
মমতাকে খোলা চ্যালেঞ্জ:
এদিন যৌথ মঞ্চের নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী অতীতে বলেছিলেন ডিএ দিতে না পারলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। সেই কথা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আমরা এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেখাব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ হামলা চালাতে এলেও সরকারি কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের পিছু হটতে হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর চাপ:
আন্দোলনকারীরা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন। চন্দন চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, পুলিশ ১২ মাস কাজ করে ১৪ মাসের বেতন পাওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে ‘তোলা’ আদায় করে। তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে পুলিশকেও নিস্তার দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও হুগলিসহ রাজ্যজুড়ে এদিন ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। কোথাও সরকারি দপ্তরে তালা ঝোলানো, আবার কোথাও মিছিলে উত্তাল হয়েছে এলাকা।
বিভিন্ন স্থানে শাসকদলের সমর্থক কর্মচারী সংগঠন ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি দপ্তরে স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর থাকলেও, আন্দোলনকারীদের দাবি ও হুঁশিয়ারি রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও চড়িয়েছে।