কেরলের পরিবহণমন্ত্রী কে গণেশ কুমারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর স্ত্রী বিন্দু মেননের আনা গুরুতর অভিযোগের জেরে এলডিএফ (LDF) সরকারের অন্দরে অস্বস্তি তুঙ্গে। বিন্দুর দাবি, তিনি নিজের বাড়িতেই মন্ত্রীকে অন্য এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন। এমনকি, ঘটনার ছবি তোলার সময় মন্ত্রীর কর্মীরা তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত বিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিন্দু মেনন দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নকে ফোন করে জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ৬০ বছর বয়সী গণেশ কুমার পাথানাপুরম থেকে পাঁচবার নির্বাচিত বিধায়ক এবং কেরল কংগ্রেস (বি)-র চেয়ারম্যান। অতীতেও ২০১৩ সালে প্রাক্তন স্ত্রীর আনা শারীরিক নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গণেশ কুমার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রেম অপরাধ নয়, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।” তবে বিরোধীরা এই সুযোগ ছাড়ছে না। বিরোধী দলনেতা ভি ডি সাথিশান তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “একজন মন্ত্রীর স্ত্রী যদি সুরক্ষা না পান, তবে সাধারণ মহিলারা কীভাবে ন্যায় পাবেন?”
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় কোণঠাসা এলডিএফ সরকার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন কি না, এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।