সরকারি দফতরের ফাইল আর জটিল নিয়মের বেড়াজালে যখন অনেকেই দিশেহারা, তখন ডাইরেক্টরেট অফ আইসিডিএস (শৈশালী ভবন)-এর হেড কোয়ার্টারে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। সহকর্মীদের কাছে তিনি কেবল একজন উচ্চপদস্থ কর্মী নন, বরং সমস্যার সমাধানে এক অবিসংবাদিত নাম—যাকে সবাই আদর করে ডাকেন ‘মুশকিল আসান’।
পেনশন আটকে থাকা থেকে বেতনের জটিলতা, কিংবা দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত কর্মীদের হেনস্থা—সব ক্ষেত্রেই প্রসেনজিৎবাবুর উপস্থিতি যেন এক স্বস্তির নাম। তিনি নিজেই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তথ্য আদান-প্রদানের গুরুদায়িত্ব। কর্মীদের যাতে বারবার সদর দফতরে এসে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, তার জন্য ফোনে বা মেসেজেই সমাধান পৌঁছে দেন তিনি। অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে ভুল সংশোধনের পথ দেখিয়ে কর্মীদের কাজের পথ মসৃণ করেন এই মানুষটি।
কাজের প্রতি এই অতিনিষ্ঠা তাঁর স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলেছিল। অতিরিক্ত চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে কান দিয়ে রক্তপাত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে শোরগোল পড়ে যায় দফতরে। তাঁর অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সহকর্মীরাই, যা প্রমাণ করে প্রসেনজিৎবাবুর প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা। সুস্থ হয়েই তিনি ফিরেছেন নিজের দায়িত্বের জায়গায়। নিজের কর্তব্য পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের প্রতি এই সহানুভূতি তাঁকে করেছে অনন্য। প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর মতো মানুষেরাই আজ সরকারি ব্যবস্থার প্রকৃত ‘পাবলিক সারভেন্ট’ হিসেবে উদাহরণ তৈরি করছেন। সত্যি, তাঁর মতো একজন সহকর্মী থাকা মানেই বড় প্রাপ্তি।