পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকট নিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে চরম বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে সাংসদরা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘এলপিজি, এলপিজি’ স্লোগান তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের অভিযোগ, এই সংকট নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা করতে সরকার ভয় পাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এলপিজি ইস্যুতে সরকারের ‘একগুঁয়েমি’র নিন্দা করা হয়।
বিক্ষোভের পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি লোকসভায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “দেশে এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনো অভাব নেই।” তিনি জানান, রিফাইনারিগুলি তাদের উৎপাদন ক্ষমতার ১০০ শতাংশেরও বেশি কাজ করছে। গার্হস্থ্য এলপিজি জোগান সুরক্ষিত রাখতে উৎপাদন গত পাঁচ দিনে ২৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ডেলিভারির সময়সীমা বদলানো হয়নি, যা আগের মতোই গড়ে ২.৫ দিন রয়েছে।
হরদীপ পুরি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত এখন ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে, যেখানে আগে এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ২৭। হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল আমদানি উৎস বৈচিত্র্যময় করায় জ্বালানি জোগান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলে দাবি মন্ত্রীর। তবে বিরোধীদের দাবি, সরকার বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে এবং গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।